![]() |
| শীতে ঠোঁটের যত্ন |
শীতের সময় আমাদের ত্বক এবং ঠোঁট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক বাতাসে ঠোঁট দ্রুত ফেটে যায় এবং শুষ্ক হয়ে যায়। ঠোঁটের যত্ন না নিলে এটি ফেটে রক্ত পড়া এবং ব্যথার কারণ হতে পারে। শীতে ঠোঁটকে নরম এবং মসৃণ রাখতে সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। নিচে শীতে ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার জন্য ১০টি কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো:
১. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
শীতে ঠোঁট খুব দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, তাই প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোম বা শিয়া বাটারযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। ভ্যাসলিনও ঠোঁটের জন্য দারুণ কাজ করে। এটি ঠোঁটের ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
২. লিপ বাম সবসময় সাথে রাখুন
শীতকালে ঠোঁট ফাটার প্রধান কারণ হলো ঠোঁটের আর্দ্রতা হারিয়ে যাওয়া। তাই যখনই বাইরে যান, সাথে লিপ বাম রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন। SPFযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করলে রোদ থেকেও ঠোঁট সুরক্ষিত থাকবে।
৩. ঠোঁট চাটা থেকে বিরত থাকুন
অনেকেই ঠোঁট শুষ্ক হলে চেটে নেন, কিন্তু এটি ঠোঁটকে আরও শুষ্ক করে তোলে। লালা ঠোঁটের আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে ঠোঁট ফাটার কারণ হয়। তাই এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন এবং লিপ বাম ব্যবহার করুন।
৪. এক্সফোলিয়েশন করুন
মৃত ত্বক কোষ দূর করতে ঠোঁটের স্ক্রাব করা প্রয়োজন। সপ্তাহে একবার মধু ও চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে হালকা করে ঘষে নিন। এটি ঠোঁটের মরা চামড়া সরিয়ে ত্বককে মসৃণ ও নরম রাখবে।
৫. প্রচুর পানি পান করুন
শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় আমাদের শরীরের জলীয় পদার্থ দ্রুত কমে যায়, যা ঠোঁটের শুষ্কতার অন্যতম কারণ। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
৬. রাতে বিশেষ যত্ন নিন
ঘুমানোর আগে ঠোঁটে ভ্যাসলিন, নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিন। এটি সারারাত ঠোঁটকে ময়েশ্চারাইজ করে রাখবে এবং সকালে ঠোঁট নরম থাকবে।
৭. পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন
শীতে ঠোঁটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন এ, সি এবং ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। ফলমূল, সবজি এবং বাদাম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৮. ঠাণ্ডা বাতাস থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করুন
ঠাণ্ডা বাতাসে বের হলে স্কার্ফ বা মাস্ক দিয়ে মুখ এবং ঠোঁট ঢেকে রাখুন। ঠাণ্ডা বাতাস ঠোঁটের আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে শুষ্কতা সৃষ্টি করে, তাই ঠোঁট ঢেকে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৯. কেমিক্যালযুক্ত লিপস্টিক এড়িয়ে চলুন
শীতে কেমিক্যালযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কেমিক্যাল ঠোঁটের শুষ্কতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক এবং ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করুন।
১০. হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন
শীতে ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক থাকে, যা ঠোঁটের শুষ্কতার অন্যতম কারণ। ঘরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এটি বাতাসের আর্দ্রতা বাড়িয়ে ঠোঁটকে শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
শীতে ঠোঁটের শুষ্কতা এবং ফাটা থেকে বাঁচতে উপরের পরামর্শগুলো মেনে চলুন। ঠোঁটের সঠিক যত্ন নিলে ঠোঁট সবসময় নরম, মসৃণ এবং সুন্দর থাকবে।

0 Comments