![]() |
| ইসলামিক দৃষ্টিতে সহবাসের নিয়ম |
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ এবং এটি বৈধতা পাওয়ার মাধ্যমে বিবাহকে পূর্ণতা দেওয়া হয়। তবে, এ ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম এবং আদব রয়েছে যা অনুসরণ করা সুন্নাহ। এগুলো হলো:
সহবাসের আগে নিয়ত করা: সহবাসের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং বৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা। ইসলাম সহবাসকে শুধু জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য নয়, বরং দাম্পত্য সম্পর্ককে মজবুত করার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে।
সহবাসের আগে দোয়া পড়া: সহবাস শুরু করার আগে বিশেষ দোয়া পড়া সুন্নাহ। এর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া হয় যেন শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং সম্পর্কটি কল্যাণকর হয়। দোয়াটি হলো: “বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ-শাইতানা, ওয়া জান্নিবিশ-শাইতানা মা রাযাকতানা।”
অবস্থান: ইসলামে এমন কোনো অবস্থান নিষিদ্ধ নয় যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে, সহবাসের সময় এমন স্থান বেছে নেওয়া উচিত যা গোপন এবং শান্তিপূর্ণ হয়।
তাহারাত বা পবিত্রতা: সহবাসের পর উভয়কেই গুসল করা বাধ্যতামূলক। গুসল করার মাধ্যমে দেহের পবিত্রতা নিশ্চিত করা হয় এবং নামাজসহ অন্যান্য ইবাদতে অংশ নেওয়া যায়।
হারাম সম্পর্ক: পেছন দিক দিয়ে সহবাস করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া, নারীর মাসিক চলাকালীন সহবাসও নিষিদ্ধ।
সহবাসের সুন্নাহ
- সহবাসের আগে হালকা খাবার খাওয়া সুন্নাহ, এবং সহবাসের পর মধু খাওয়ার গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে।
- সঙ্গিনীর সম্মতি ও তার মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া।
- নিয়মিতভাবে আল্লাহর কাছে দাম্পত্য জীবনের মঙ্গল কামনা করা।
কিছু প্রাসঙ্গিক হাদিস ও কুরআনের আয়াত
- কুরআন: “তোমাদের স্ত্রীগণ হলো তোমাদের শস্যক্ষেত্র। তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেতে যেমন ইচ্ছা যাও...” (সূরা বাকারা: ২:২২৩)।
- হাদিস: রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য তার সঙ্গিনীর ওপর অধিকার রয়েছে এবং তোমাদের সঙ্গিনীদেরও তোমাদের ওপর অধিকার রয়েছে।” (সহিহ বোখারি)।
ইসলামে সহবাসকে শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্ক হিসেবে নয়, বরং আত্মিক এবং মানসিক বন্ধনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই সম্পর্ক আরও মজবুত এবং কল্যাণকর হয়।
Disclaimer: ইসলামিক নিয়ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ আলেমদের থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরো বিস্তারিত

0 Comments